বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন বলে মনে করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। “বাংলাদেশ অ্যাট আ ক্রসরোডস অব রিফর্মস” শীর্ষক তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর ব্যবস্থা, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে এডিবি আটটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন ও কর ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, কেন্দ্রীয় ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠন, বাজেট ও পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শক্তিশালীকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মূল্যায়ন ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় সংস্কার।
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি বাড়ানো, দুর্নীতি দমন ও নিরীক্ষা সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এডিবির মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার মতো একাধিক চাপের মুখে রয়েছে। গত কয়েক বছরে প্রবৃদ্ধি কমে এলেও অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত কম, ঋণের চাপ বাড়ছে এবং ব্যাংক খাতের ঝুঁকি অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্বল পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের লোকসানও পরিস্থিতি জটিল করছে।
এডিবি সতর্ক করে বলেছে, আগামী দিনে সহজ শর্তের বিদেশি ঋণ ও বাণিজ্য সুবিধা কমে যেতে পারে, তাই এখনই কার্যকর সংস্কার না নিলে অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়বে।