২৮ দিনের প্রস্তুতিতেও হার মানেনি মালদ্বীপ, লড়াকু মেয়েদের প্রশংসায় কোচ

Date: 2026-05-28
news-banner

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে হারতে হয়েছে মালদ্বীপকে। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দলটির সাহসী প্রত্যাবর্তন ও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ২-২ সমতায় ফেরা মালদ্বীপের নারী ফুটবলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মালদ্বীপের কোচ ও সাবেক ফুটবলার সাবাহ মোহামেদ ইব্রাহিম বলেন, তিনি তাঁর দলের পারফরম্যান্সে গর্বিত। খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে।

মাত্র ২৮ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া মালদ্বীপের জন্য শুরু থেকেই পরিস্থিতি কঠিন ছিল। সাবাহ জানান, তিনি মূলত অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ ছিলেন। হঠাৎ করেই ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেয়। মালদ্বীপে পেশাদার নারী ফুটবল কাঠামো না থাকায় দল গঠনে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় তাকে।


তিনি বলেন, দেশটির অধিকাংশ নারী ফুটবলার ফুটসাল থেকে উঠে আসে এবং নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টের সময়ই জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হয়। ভারত, বাংলাদেশ কিংবা নেপালের মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও পেশাদার লিগের সুবিধা তাদের নেই।

tTMIHd6.png


টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নানা ভোগান্তির শিকার হয় দলটি। মুম্বাই বিমানবন্দরে টিকিট ও প্রশাসনিক জটিলতায় দলের অর্ধেক খেলোয়াড় আটকে পড়েন। কিছু লাগেজও হারিয়ে যায়। ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়াই মাঠে নামতে হয় মালদ্বীপকে। কোচের ভাষায়, ২৪ ঘণ্টারও কম বিশ্রাম নিয়ে এবং মূল গোলরক্ষক ছাড়া ভারতের বিপক্ষে খেলাটা ছিল বিশাল ধাক্কা।


ভারতের কাছে ১১-০ গোলে বড় ব্যবধানে হারের পর দল মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও কোচ খেলোয়াড়দের সাহস জুগিয়েছিলেন। তিনি তাদের বলেছিলেন, গোল খাওয়ার পরেও যেন আত্মবিশ্বাস না হারায় এবং আরও গোল না খাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়।


সাবাহ আরও জানান, তাঁর দলের রক্ষণভাগের পরিকল্পনা শুরু হয় আক্রমণভাগ থেকেই। প্রতিপক্ষের সেন্টার ব্যাক বল নিয়ে সামনে উঠলে স্ট্রাইকারকেই প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে চাপ সৃষ্টি করতে বলা হয়।


প্রতিবেশী দেশগুলোর উন্নতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নেয় এবং বিদেশে ক্যাম্প করে নিজেদের শক্তিশালী করছে। এমনকি ভুটানও উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তাঁর মতে, ফুটবলের উন্নয়ন দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার এবং রাতারাতি সফল হওয়া সম্ভব নয়।


সব প্রতিকূলতার মাঝেও মেয়েদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ এই কোচ বলেন, তাঁর খেলোয়াড়রা এমন লড়াই করেছে যা তাকেও অবাক করেছে।

advertisement image

Leave Your Comments