ভারতে সম্প্রতি আলোচনায় আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)’–এর প্রতিষ্ঠাতা কে এই অভিজিৎ

Date: 2026-05-22
news-banner

বর্তমানে ভারতজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। নাম শুনে এটি একটি রাজনৈতিক দল মনে হলেও, বাস্তবে এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে ঘিরেই এর সূচনা। আর প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী অর্জন করেছে এই প্ল্যাটফর্ম।


গত ১৬ মে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর একটি মন্তব্যের প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গঠন করেন অভিজিৎ দীপকে। চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।


বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ভারতের অনেক বড় রাজনৈতিক দলের অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে আইনি নোটিশের কারণে গত বৃহস্পতিবার ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) থেকে দলটির অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অনুসারী ছিল ২ লাখেরও বেশি। অভিজিৎ দীপকের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, অধিকারকর্মী ও শিল্পীরা।


কে এই অভিজিৎ দীপকে?

৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে ভারতের পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন।

২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলটির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে কেজরিওয়ালের প্রচারণায় মিমভিত্তিক ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


কী এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?

দলটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি এমন মানুষদের প্ল্যাটফর্ম, যাদের রাষ্ট্র বা সিস্টেম ভুলে গেছে। নিজেদের তারা ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ বলে পরিচয় দেয়।

দলটিতে যোগ দেওয়ার শর্তও বেশ ব্যতিক্রমধর্মী। সদস্য হতে হলে বেকার, অলস এবং সারাক্ষণ অনলাইনে সক্রিয় থাকতে হবে। পাশাপাশি পেশাদারভাবে সমালোচনা বা ‘র‍্যান্ট’ করার দক্ষতাও থাকতে হবে।

মিম, অ্যানিমেশন ও তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সিজেপি তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তারা ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের মাধ্যমে তুলে ধরছে।


যে মন্তব্য থেকে বিতর্কের শুরু

১৫ মে এক মামলার শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ শব্দ ব্যবহার করে মন্তব্য করেন। তিনি এক আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কিছু যুবক তেলাপোকার মতো। তারা কোনো কাজ পায় না, পেশায় জায়গা করতে পারে না। পরে কেউ মিডিয়া, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা আরটিআই কর্মী হয়ে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।’

এর পরদিনই সেই মন্তব্যের প্রতিবাদে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ দীপকে। যদিও পরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি মূলত ভুয়া ও জাল ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় আসা ব্যক্তিদের উদ্দেশ করে ওই মন্তব্য করেছিলেন।

advertisement image

Leave Your Comments