শেষ দিনে ছাগলের হাটে চরম দরাদরি: বৃষ্টি, কম ক্রেতা ও দামের ওঠানামায় অস্থির বাজার

Date: 2026-05-27
news-banner
 শেষ দিনের কোরবানির পশুর হাটে চট্টগ্রামের বিবিরহাট ও সাগরিকা এলাকায় ছাগলের বাজারে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় হাটের ভেতরে জমে থাকা কাদা ও পানিতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও ভেজা মাটির ওপর দাঁড়িয়েই চলছে প্রাণবন্ত দরাদরি।

কেউ ছাগলের দাঁত পরীক্ষা করছেন, কেউ আবার হাঁটিয়ে দেখে নিচ্ছেন পশুর স্বাস্থ্য ও গঠন। এই ভিড়ের মাঝেই দুইটি ছাগল কিনে হাট থেকে বের হচ্ছিলেন মুজিবুর রহমান। তিনি জানান, বাজেট অনুযায়ী গরু না পেয়ে ছাগল কিনতে হয়েছে। প্রায় ৪১ হাজার ৫০০ টাকায় তিনি দুটি মাঝারি আকারের ছাগল কেনেন। তাঁর ভাষায়, “বাজেট ছিল ৫০ হাজার টাকা, কিন্তু গরু পছন্দ হয়নি, তাই ছাগলই নিলাম।”

হাট ঘুরে দেখা গেছে, গরুর তুলনায় ছাগলের খোঁয়াড়ে এবার ক্রেতার ভিড় তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ছোট পরিবার ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন মত।

ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার ছাগলের দাম কিছুটা বেশি। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, শেষ মুহূর্তে বৃষ্টি ও ক্রেতা কম থাকায় অনেক ছাগল এখনও অবিক্রীত রয়ে গেছে, ফলে তারা বাধ্য হয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি করছেন।

বিবিরহাটে একটি লাল রঙের ছাগল ১৯ হাজার টাকায় কিনে বের হন মোহাম্মদ ইদ্রিস। তিনি জানান, “১৫-১৬ হাজার টাকায় আশা করেছিলাম, কিন্তু পছন্দমতো ওই দামে ছাগল পাইনি।”

হাটের তথ্য অনুযায়ী, ছোট আকারের দেশি ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। মাঝারি আকারের ছাগলের দাম ১৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বড় আকারের ছাগল ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।

পাহাড়তলীর আবদুল জব্বার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার একই ধরনের ছাগলের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে, যা অনেকটাই বেশি মনে হচ্ছে। একই অভিযোগ আরও কয়েকজন ক্রেতার।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। ভোলা থেকে প্রায় ৫০০ ছাগল নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম জানান, তিনি ইতিমধ্যে প্রায় ১০০টি ছাগল বিক্রি করেছেন। তাঁর মতে, শেষ দিনে দাম কিছুটা কমলেও পরিবহন ও খাদ্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় খুব বেশি ছাড় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

একইভাবে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইদুল বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্রেতা কম এসেছে। ফলে অনেক ছাগল অবিক্রীত রয়ে গেছে এবং শেষ মুহূর্তে বাধ্য হয়েই কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, অনেকেই শুধু দাম যাচাই করছেন কিন্তু চূড়ান্তভাবে কিনছেন না। এতে বিক্রি প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে না।

তবে সব মিলিয়ে এবার ছাগলের বিক্রি তুলনামূলক ভালো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গরুর দাম অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে ছোট পরিবার ও মধ্যবিত্তদের বড় একটি অংশ ছাগলের দিকে ঝুঁকছে।

আগ্রাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির ২৮ হাজার টাকায় একটি ছাগল কিনেছেন। তিনি বলেন, আগে পরিবারের সবাই মিলে গরু কোরবানি দিত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাই এবার তিনি একা ছাগল কিনে কোরবানি দিচ্ছেন।

হাটে এমন অনেক ক্রেতাই দেখা গেছে, যারা চাকরিজীবী বা ছোট ব্যবসায়ী। সংসারের খরচ বাড়ায় তারা এখন হিসাব করে কোরবানির পশু কিনছেন।

বিক্রেতা মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, আগে ছাগলকে অনেকেই দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে দেখত, কিন্তু এখন পরিকল্পনা করেই অনেকেই ছাগল কিনছেন। কম খরচ ও সহজ ব্যবস্থাপনার কারণে ছাগলের চাহিদা বেড়েছে।

হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, এবার অনেক গরু অবিক্রীত থাকতে পারে, তবে ছাগলের বিক্রি তুলনামূলক ভালো হয়েছে। কারণ এটি এখনও অনেকের নাগালের মধ্যে রয়েছে।

advertisement image

Leave Your Comments